ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ), স্টাফ রিপোর্টারঃ ২০ এপ্রিল ২০২৬
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কাজের শ্রমিকসহ একই পরিবারের তিন সদস্যসহ মোট চারজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল রবিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের করিমপুর শেখপাড়া গ্রামে নজরুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কালাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, করিমপুর শেখপাড়া গ্রামের মৃত শেখ মোয়াজ্জিম হোসেনের ছেলে শেখ জাকির হোসেন, শেখ জুলফিকার ও শেখ দোয়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নজরুল ইসলামের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এরই জেরে রবিবার সন্ধ্যায় নজরুল ইসলামের নতুন বসতবাড়ির পূর্ব পাশে টয়লেটের সেফটিক ট্যাংক খননের কাজ চলাকালে প্রতিপক্ষরা এসে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেয় এবং হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি।
এ সময় শ্রমিক মো. আপেলকে মারধর করা হয়। পরে নজরুল ইসলামের ছেলে নাছির শেখ ঘটনাস্থলে এলে তাকেও ধারালো অস্ত্র ও কোদাল দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, বিকেলে সেফটিক ট্যাংক বসানোর জন্য শ্রমিকরা গর্ত খনন করে চলে যায়। পরে অপর শ্রমিক আপেল কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা এসে কাজে বাধা দিলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরেই তারা হামলা চালিয়ে আমার ছেলেকে গুরুতর আহত করেছে।
আহত নাছির শেখ বলেন, মারামারির খবর শুনে ঘটনাস্থলে গেলে প্রতিপক্ষরা অতর্কিত হামলা চালায়। আমার মাথায় কোদাল দিয়ে আঘাত করলে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। পরে স্থানীয়রা আমাকে হাসপাতালে নেয়।
শ্রমিক আপেল জানান, তিনি বিকেলে কাজ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন এবং পরে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
অভিযুক্ত শেখ জাকির হোসেন দাবি করেন, তিনি একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর তার স্ত্রী তাকে বাইরে যেতে দেননি। ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।
কালাই থানার ডিউটি অফিসার মো. আতোয়ার হোসেন জানান, মারামারির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ শামছুল আলম, সদর রোড, আমতলী, মিডিয়া লেন, জয়পুরহাট-৫৯০০
মোবাইলঃ ০১৭৩৫-২২১৬৬৪, ০১৯৯৩-৭৬৩৪৩৩, ই-মেইলঃ wjoypurkantha@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত