ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
স্টাফ রিপোর্টারঃ বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় চাঁদার দাবিতে নববিবাহিতা স্ত্রীকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মামুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আবির ইত্তেখারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মারধর, টাকা আত্মসাৎ ও জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগ উঠলে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রদল।
গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যাডে স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নোটিশে বলা হয়, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কেএম হাসান ও সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলামের কাছে লিখিতভাবে এবং স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী লিটন মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, তিনি প্রবাসে থাকা অবস্থায় কুষ্টিয়ার এক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার আগে আবির ইত্তেখার তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে ক্ষেতলালের বিভিন্ন স্থানে ঘোরান এবং হুমকি-ধমকি দেন। পরে ওই নারী, সাংবাদিক শাহিন মিলনসহ আরও কয়েকজন তাকে বিলের ঘাট এলাকায় নিয়ে মারধর করেন।
তিনি আরও জানান, পরে তাকে ডাবলু কাজির বাড়িতে নিয়ে অস্ত্রের মুখে মারধর করে পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে জোরপূর্বক বিয়ে করানো হয়। এ সময় তার কাছে থাকা ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং আরও এক লাখ টাকা না দিলে তার স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
লিটন মোল্লা দাবি করেন, বিয়ের পর তার নববিবাহিতা স্ত্রীকে আবির ইত্তেখার, সাংবাদিক মিলন, শাহিন ও বাবু নামের কয়েকজন ব্যক্তি জিম্মি করে রাখেন। তারা তার কাছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও তার স্ত্রীকে ফেরত দেওয়া হয়নি। বাকি এক লাখ টাকা দিলে স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। টাকা দিতে না পারায় তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি বলেও জানান লিটন মোল্লা। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলাম বলেন, “লিটন মোল্লা নামের এক যুবকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে আবির ইত্তেখারের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবির ইত্তেখারের সঙ্গে বুধবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ শামছুল আলম, সদর রোড, আমতলী, মিডিয়া লেন, জয়পুরহাট-৫৯০০
মোবাইলঃ ০১৭৩৫-২২১৬৬৪, ০১৯৯৩-৭৬৩৪৩৩, ই-মেইলঃ wjoypurkantha@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত