ছবির ক্যাপশনঃ
জয়পুরহাট প্রতিনিধি: ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ডেঙ্গু প্রতিরোধ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আদালত প্রাঙ্গণকে মশামুক্ত রাখতে জয়পুরহাটে ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি-২০২৬-এর আওতায় বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জয়পুরহাট আদালত প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ অনুপ কুমার।
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তাঁদের সঙ্গে জজ কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি), আইনজীবী ও আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও মশক নিধন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বিকাশ কুমার বসাক, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম মিঞা, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. রাসেল মাহমুদ, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাসির উদ্দিন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আতিয়ারা আক্তার এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদা কানওয়ালসহ বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা আদালত প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনায় অংশ নেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং মশার বংশবিস্তারের উপযোগী স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ। এ রোগের বিস্তার রোধে শুধু মশা নিধন করলেই যথেষ্ট নয়; মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ার, ছাদ ও আশপাশের যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।
আদালত প্রাঙ্গণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন বিচারিক সেবা নিতে আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। ফলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের গুরুত্ব বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। নিয়মিত মশক নিধন, পানি জমতে না দেওয়া, বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ এবং ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আদালত প্রাঙ্গণসহ আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং সম্মিলিত সচেতনতাই হতে পারে কার্যকর প্রতিরোধের অন্যতম উপায়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ শামছুল আলম, সদর রোড, আমতলী, মিডিয়া লেন, জয়পুরহাট-৫৯০০
মোবাইলঃ ০১৭৩৫-২২১৬৬৪, ০১৯৯৩-৭৬৩৪৩৩, ই-মেইলঃ wjoypurkantha@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত