ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
চৈত্রের শেষ বিকেলে ধুলো উড়ানো পথ ধরে এগোলে দূর থেকে ভেসে আসে শঙ্খধ্বনি, কাঁসরের শব্দ আর মানুষের কোলাহল। বিরামপুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের সেই প্রাচীন টিলার ওপর দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী—জামলেশ্বর মন্দির। আর তার পাদদেশে বসে শতাব্দী পেরোনো এক লোকজ উৎসব—মির্জাপুর জামলেশ্বর মন্ডপ মেলা।
বাংলা ১১১১ সনে ভৈরব রাজার হাত ধরে যে মেলা ও মন্দিরের যাত্রা শুরু, তা আজ প্রায় তিনশো বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। জনশ্রুতি বলে, প্রজাদের মঙ্গল কামনায়ই এই আয়োজনের সূচনা—যেখানে ধর্ম, সংস্কৃতি আর মানুষের মিলন ঘটেছিল এক বিন্দুতে।
চৈত্র সংক্রান্তির প্রভাতে শুরু হয় এই মেলা। সন্ন্যাসী পূজাকে কেন্দ্র করে ভক্তদের আনাগোনা বাড়তে থাকে, আর মন্দির প্রাঙ্গণ রূপ নেয় এক আধ্যাত্মিক মিলনমেলায়। দূর-দূরান্ত থেকে আগত মানুষের কাছে এটি শুধু একটি উৎসব নয়, এ যেন তীর্থযাত্রা, বিশ্বাসের পুনর্জাগরণ।
মেলার চত্বরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গ্রামীণ জীবনের সরল সৌন্দর্য। মাটির তৈরি খেলনা, বাঁশ-বেতের নানান সামগ্রী, কাঠের আসবাব আর রঙিন মিষ্টির দোকান—সব মিলিয়ে যেন এক জীবন্ত লোকজ জাদুঘর। শিশুদের চোখে বিস্ময়, বড়দের মুখে স্মৃতির ছায়া। এই মেলাই যেন তাদের শৈশব, তাদের শিকড়।
তবে সময়ের প্রবাহে কিছুটা ম্লান হয়ে এসেছে এই ঐতিহ্যের দীপ্তি। একসময় যে মেলা ছিল জনারণ্যে ভরা, আজ তা কিছুটা সংকুচিত। তবুও মানুষের ভালোবাসা আর টান এখনো টিকে রেখেছে এই আয়োজনকে।
চৈত্রের শেষ দিনে মির্জাপুরের এই মেলা যেন মনে করিয়ে দেয়, ঐতিহ্য কখনো হারায় না, শুধু অপেক্ষা করে নতুন করে জেগে ওঠার। আর সেই জাগরণের সাক্ষী হয়ে প্রতি বছর আবারও ফিরে আসে জামলেশ্বর মন্ডপ মেলা, লোকজ সংস্কৃতির অনির্বাণ আলো হয়ে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ শামছুল আলম, সদর রোড, আমতলী, মিডিয়া লেন, জয়পুরহাট-৫৯০০
মোবাইলঃ ০১৭৩৫-২২১৬৬৪, ০১৯৯৩-৭৬৩৪৩৩, ই-মেইলঃ wjoypurkantha@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত