ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
মোঃ সাকিব ইসলাম পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ভারত মহাসাগরে, আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ২,০০০ কিমি দূরে অবস্থিত মরিশাসে রান্না করতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মোছা. শর্মি আক্তার ছাবিনা (৩০) নামে এক বাংলাদেশি নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার দক্ষিণ পাকুরিয়া গ্রামের বাড়িতে। প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন বৃদ্ধা মা ও স্বজনরা।
নিহত ছাবিনা পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পাকুরিয়া গ্রামের মৃত ছামছুলের মেয়ে। মরিশাস সময় গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৮ টার দিকে নিজ বাসায় রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে ওই টুনা ফিস কোম্পানির এক কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। বাকরুদ্ধ স্বজনরা, কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বারবার।
নিহতের বড় ভাই বিপ্লব ইসলাম জানান,চার ভাই-বোনের মধ্যে ছাবিনা দ্বিতীয়। দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে ২০১৫ সালে তাকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার বরইপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই স্বামীর নির্যাতনের শিকার হন তিনি। দুই বছর সংসার জীবনে একটি পুত্রসন্তান জন্মের পর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্বামীকে তালাক দিয়ে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ শুরু করেন। পরে এক সহকর্মীর মাধ্যমে মরিশাসের একটি টুনা ফিস কোম্পানিতে কাজের সুযোগ পান ছাবিনা। প্রায় আট বছর ধরে সেখানে কর্মরত ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ একটি দুর্ঘটনায় নিভে গেল তার জীবনের প্রদীপ। মা হারা হলো একমাত্র ছেলে। আর মেয়ে হারা হলেন তার বৃদ্ধা মা।
বিপ্লব ইসলাম আরও বলেন, গত শুক্রবার কোম্পানি থেকে ফোনে জানানো হয়, আমার বোন আর নেই। এই খবর শোনার পর আমাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। এখন আমাদের একটাই চাওয়া তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরে আসুক। তিনি জানান, মেয়ের শোকে তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বিদেশে থেকে কষ্ট করে উপার্জিত অর্থে আমার বোন আমাদের জন্য ৫-৬ কক্ষের একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে ছিলাম। কিন্তু সে নিজে সেই বাড়িতে একদিনও থাকতে পারল না।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তালাকের পর ছাবিনার একমাত্র সন্তান তার বাবার কাছেই রয়েছে।
এদিকে ছাবিনার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ছাবিনা খুবই পরিশ্রমী ও সহানুভূতিশীল ছিলেন। এমন একজন পরিশ্রমী মেয়েকে নিয়ে ঘরসংসার করতে পারেনি তার স্বামী। মনের দুখে সে বিদেশে পাড়ি জমায়। পরিবারের অভাব দূর করতে তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ.স.ম. সামছুল আরেফিন চৌধুরী আবু বলেন,প্রবাসী ছাবিনার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার মরদেহ দেশে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ তার পরিবারকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ শামছুল আলম, সদর রোড, আমতলী, মিডিয়া লেন, জয়পুরহাট-৫৯০০
মোবাইলঃ ০১৭৩৫-২২১৬৬৪, ০১৯৯৩-৭৬৩৪৩৩, ই-মেইলঃ wjoypurkantha@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত