ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
স্টাফ রিপোর্টার: ২৮ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার শিরন্টি ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধা ও তার মেয়েকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আহতদের মধ্যে মা মজিদা বিবির (৬৫) পা ভেঙে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সালমা খাতুন বাদী হয়ে সাপাহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিরন্টি মৌজায় ১৭ শতাংশ পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খঞ্জনপুর গ্রামের মৃত সোলাইমান আলীর ছেলে মোঃ ফয়সাল আহম্মেদ ফিলু গংদের সাথে একই এলাকার মোঃ আব্দুস সালামের বিরোধ চলছিল। ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই জমি তারা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু গত ১৩ এপ্রিল বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক সেখানে মাটির ঘর নির্মাণ শুরু করে। বাধা দিলে তারা প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২৮ এপ্রিল (রবিবার) সকালে বিবাদী ফয়সাল আহম্মেদ ফিলুসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে পুনরায় কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে আব্দুস সালামের মেয়ে সালমা খাতুন বাধা দিতে গেলে বিবাদীরা তাকে লক্ষ্য করে মাছ ধরার ‘খোঁচা’ দিয়ে আঘাত করে। এতে তার বাম হাতের আঙুল কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। এসময় তাকে বাঁচাতে মা মজিদা বিবি এগিয়ে এলে বিবাদীরা লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করে। লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সেই আঘাত তার ডান পায়ের হাঁটুতে লাগলে পা ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর জখম হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত সালমা খাতুন বলেন, "তারা আমাদের পৈত্রিক জমি দখল করতে চায়। বাধা দেওয়ায় তারা আমাকে এবং আমার বৃদ্ধা মাকে পৈশাচিক কায়দায় পিটিয়েছে। আমার মায়ের অবস্থা খুব খারাপ, ডাক্তার তাকে রাজশাহীতে পাঠিয়েছেন। আমরা এর বিচার চাই।"
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল আহমেদ ফিলু। তিনি বলেন, "আমরা আমাদের জমিতে কাজ করছিলাম, তারা এসে বাধা দেয়। আমি বা আমরা তাদের মারিনি। তারা নিজেরাই পা ভেঙে রাজশাহীতে ভর্তি হয়েছে।"
এ বিষয়ে সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত বৃদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে রেফার্ড করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীরা মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই সহিংসতার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ শামছুল আলম, সদর রোড, আমতলী, মিডিয়া লেন, জয়পুরহাট-৫৯০০
মোবাইলঃ ০১৭৩৫-২২১৬৬৪, ০১৯৯৩-৭৬৩৪৩৩, ই-মেইলঃ wjoypurkantha@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত