ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
বিশেষ প্রতিবেদনঃ শনিবার, ১৪ ফেব্রয়ারী ২০২৬
ভোটের ব্যবধানের অঙ্কে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ তারকাদের কাতারে জায়গা করে নেওয়ার পরও জয়পুরহাটবাসীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন—এবার কি আমাদের একজন মন্ত্রী পাওয়া উচিত নয়?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী মাটি ও মানুষের নেতা মোঃ আব্দুল বারী যে ফলাফল উপহার দিয়েছেন, তা শুধু স্থানীয় রাজনীতিতে নয়—জাতীয় রাজনীতিতেও নজিরবিহীন। প্রায় ৬৬ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি সারা দেশে বিএনপির ২১২টি আসনের মধ্যে ভোটের ব্যবধানের বিচারে শীর্ষ ১৫ জন নেতার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।
এই তালিকায় রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতির পরিচিত নাম—
তারেক রহমান,
মিল্টন মোরশেদ,
লুৎফুজ্জামান বাবর,
সালাহউদ্দিন আহমেদ,
এবং আমানউল্লাহ আমান—
এই শীর্ষ সারিতেই উঠে এসেছে জয়পুরহাট-২ এর নাম। “ধানের শীষের ঘাঁটি, আব্দুল বারীর ঘাঁটি”
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষায়, এই ফলাফল প্রমাণ করে দিয়েছে—জয়পুরহাট-২ আসন ধানের শীষের ঘাঁটি, আর সেই ঘাঁটির নেতৃত্বে আব্দুল বারী।
ক্ষেতলাল উপজেলার এক প্রবীণ ভোটার আব্দুল কাদের (৬২) বলেন, “এত বড় ব্যবধানে ভোট দিয়ে আমরা বার্তা দিয়েছি। শুধু এমপি নয়, এবার জয়পুরহাট একজন মন্ত্রী চায়।”
কালাই উপজেলার নারী ভোটার রওশন আরা (৪৫) জানান, “রাস্তা, শিল্পকারখানা, কর্মসংস্থান—সবকিছুতেই আমরা পিছিয়ে। মন্ত্রী না থাকলে আমাদের কথা কে শুনবে?”
জয়পুরহাট জেলা দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে অবহেলিত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আশপাশের জেলাগুলো যেখানে মন্ত্রিত্ব, বড় প্রকল্প আর উন্নয়ন বরাদ্দ পেয়েছে, সেখানে জয়পুরহাট থেকেছে পিছিয়ে।
জেলা বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “৬৬ হাজার ভোটের ব্যবধান শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়, এটা জেলার মানুষের ক্ষোভ আর প্রত্যাশার প্রতিফলন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে শক্ত অবস্থান, বিশাল ভোটের ব্যবধান এবং দলীয় নেতৃত্বে আস্থার জায়গা তৈরি—সব মিলিয়ে মোঃ আব্দুল বারী এখন মন্ত্রিত্বের জন্য একটি যৌক্তিক দাবি হয়ে উঠেছেন।
জয়পুরহাট শহরের এক ব্যবসায়ী বলেন, “একজন মন্ত্রী থাকলে শিল্পাঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল, কর্মসংস্থান—সব ক্ষেত্রেই জেলার চেহারা বদলাতে পারে।”
শেষ কথাঃ ভোটের রায়ে জয়পুরহাটবাসী তাদের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিয়েছে। এখন প্রশ্নটা আর জনপ্রিয়তা নিয়ে নয়- প্রশ্নটা ন্যায্যতা নিয়ে।
৬৬ হাজার ভোটের ব্যবধান, জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ তালিকায় অবস্থান—সবকিছুর পরও যদি জয়পুরহাট একজন মন্ত্রী না পায়, তাহলে জেলার মানুষের এই বিপুল রায় কি সত্যিই মূল্য পাবে?
জয়পুরহাট এখন অপেক্ষায়—প্রতিদানের।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ শামছুল আলম, সদর রোড, আমতলী, মিডিয়া লেন, জয়পুরহাট-৫৯০০
মোবাইলঃ ০১৭৩৫-২২১৬৬৪, ০১৯৯৩-৭৬৩৪৩৩, ই-মেইলঃ wjoypurkantha@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত