
ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
স্টাফ রিপোর্টারঃ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় এক কৃষকের জমির সরিষা জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার ঘটনায় জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন ফিদাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) কালাই উপজেলার মোমিন ইসলাম নামে এক কৃষকের জমিতে দলবল নিয়ে গিয়ে সরিষা কেটে নিয়ে যান যুবদল নেতা ফিদা ও তার চাচাতো ভগ্নিপতি মেহেদী মাছুম। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক মোমিন ইসলাম সোমবার বিকেলে বাদী হয়ে কালাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফিদা ও মেহেদী মাছুমসহ মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে যুবদল নেতা ফিদাকে গ্রেফতার করে।
ঘটনার পর সোমবার বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় ‘কৃষকের জমির সরিষা কেটে নিলেন যুবদল নেতা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এর পরই মামলা, গ্রেফতার এবং দলীয় বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কৃষক মোমিন ইসলামের বাবার মৃত্যুর পর থেকে চাচাদের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করেই মোমিন ইসলামের চাচা আফছার আলীর জামাই মেহেদী মাছুম স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের ২০–২৫ জন কর্মী ভাড়া করে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সরিষা কাটতে বাধ্য করেন। উপায় না পেয়ে কৃষক মোমিন ইসলাম জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা সরিষা কেটে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ কালাই কৃষি ব্যাংক পাড়া এলাকায় মেহেদী মাছুমের বাড়ির সামনে স্তুপ করে রাখা সরিষা উদ্ধার করে জব্দ করে।
এ ঘটনায় দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোক্তাদুল হক আদনান বলেন, “ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করব না।” অন্যদিকে, কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “যুবদল নেতা ফিদাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আইনের প্রয়োগ এবং দলীয় শৃঙ্খলার দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপে স্থানীয় মহলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।