
ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
পানছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধিঃ সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
পাহাড়ে এখন বসন্তের শেষ আলো আর নববর্ষের আগমনী সুর। সেই সুরে ভেসে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনপদের অন্যতম প্রাণের উৎসব বিজু। ভোরের কোমল আলোয় চেঙ্গী নদীর জলে ফুল ভাসিয়ে চাকমা সম্প্রদায় বরণ করে নিয়েছে তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের প্রথম দিন ‘ফুল বিজু’।
রবিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শান্তিপুর রাবার ড্রাম এলাকার চেঙ্গী নদীর তীরে জড়ো হন শত শত মানুষ। পাহাড়ি ঐতিহ্যের রঙিন পোশাকে সেজে শিশু থেকে তরুণ-তরুণী—সবাই যেন এক হয়ে যায় প্রকৃতির সঙ্গে। হাতে সাজানো থালাভর্তি বুনো ফুল, আর মনে নতুন দিনের প্রার্থনা—নদীর স্বচ্ছ জলে একে একে ভেসে ওঠে রঙিন পাপড়ির মায়াবী দৃশ্য।
ফুল ভাসানোর এই আচার শুধু উৎসবের সূচনা নয়, বরং পুরাতন বছরের সকল দুঃখ-গ্লানি ধুয়ে ফেলে নতুন বছরের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনার প্রতীক। প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা আর জীবনের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য প্রকাশ ঘটে এই আয়োজনে।
নদীর বুকে হাজারো ফুলের সমারোহ যেন রঙের এক চলমান কাব্য। সেই দৃশ্য দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরাও। পাহাড়, নদী আর মানুষের মিলিত উচ্ছ্বাসে তৈরি হয় এক অপূর্ব নান্দনিক পরিবেশ।
পার্বত্য ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ‘ফুল বিজু’র মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হলেও এর মূল আকর্ষণ ‘মূল বিজু’ পালিত হবে আগামীকাল। এদিন ঘরে ঘরে রান্না হবে ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘পাজন’, আর চলবে অতিথি আপ্যায়নের ব্যস্ততা। উৎসবের শেষ দিন ‘গজ্যাপজ্যা বিজু’তে নববর্ষকে বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই বর্ণিল আয়োজন।
এদিকে পানছড়ির বাজারগুলোতেও লেগেছে উৎসবের আমেজ। কেনাকাটা, হাসি-আনন্দ আর মিলনমেলায় মুখর হয়ে উঠেছে জনপদ। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সবাই যখন একসাথে মেতে ওঠে, তখন বিজু হয়ে ওঠে শুধু একটি উৎসব নয়—এটি হয়ে ওঠে সম্প্রীতি, ঐতিহ্য আর সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল প্রতীক।