
ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ), স্টাফ রিপোর্টার
১০ এপ্রিল ২০২৬
জয়পুরহাটের কালাইয়ে আয়োজিত দুইদিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় স্টল বরাদ্দ পেয়েও অংশগ্রহণ না করায় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও একাধিক স্টল ফাঁকা থাকায় মেলার পরিবেশে নেমে আসে স্থবিরতা, আর শিক্ষার্থীরা হারায় নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
গত বুধবার সকাল ১০টায় কালাই সরকারি মহিলা কলেজ মাঠে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ২২টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। অংশ না নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইন্দাহার উচ্চ বিদ্যালয়, বোড়াই রহিমা খাতুন দাখিল মাদ্রাসা, পাঁচগ্রাম জান্নাতী দাখিল মাদ্রাসা, কাঁটাহার রাউফিয়া দাখিল মাদ্রাসা, আর এ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কালাই টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ এবং মাত্রাই বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজ।
যদিও কাঁটাহার রাউফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দ্বিতীয় দিনে উপস্থিত হয়, তারা কোনো প্রকল্প প্রদর্শন করেনি। অন্যদিকে কালাই ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসা প্রথম দিনে অংশ নিলেও দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত ছিল।
মেলায় আরও একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বহুতী আলিম মাদ্রাসা ও নওয়ানা দাখিল মাদ্রাসা আলাদা প্রতিষ্ঠান হয়েও “পানির অপচয় রোধে সেন্সরের ব্যবহার” নামে একই প্রকল্প প্রদর্শন করেছে। এতে স্বতন্ত্র উদ্ভাবনের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দর্শনার্থীরা জানান, ফাঁকা স্টল ও একই প্রকল্পের পুনরাবৃত্তি মেলার আকর্ষণ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
শিক্ষকরা বলছেন, “এ ধরনের মেলায় অংশগ্রহণ না করলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়। বইয়ের বাইরে বিজ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ বোঝার সুযোগ হারায়।”
অভিভাবকদের ভাষ্য, “সব প্রতিষ্ঠানের নতুন নতুন উদ্ভাবন দেখার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু অনেক স্টল খালি থাকায় আমরা হতাশ।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, “স্টল বরাদ্দ পাওয়ার পরও যারা অংশ নেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প অন্য প্রতিষ্ঠান প্রদর্শন করতে চাইলে তা পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা বিকাশ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। সংশ্লিষ্টদের মতে, কিছু প্রতিষ্ঠানের অনীহা এই লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করছে। ভবিষ্যতে এমন অবহেলা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।