
ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
মিজানুর রহমান, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধিঃ সোমবার,৮ ডিসেম্বর ২০২৫
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নে সারের বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চলছে—এমন অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের। শীতকালীন মৌসুমে আলু রোপণ শুরু হওয়ায় সারের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। এই সুযোগে একটি অসাধু মহল সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে সারের দাম আকাশচুম্বীঃ
কিচক বাজারের বিভিন্ন ডিলার পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়— সরকারি মূল্য ডিএপি: ১,০৫০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে: ১,৭০০ টাকা। টিএসপি: ১,৩৫০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে: ১,৯৫০ টাকা। এমওপি ও ইউরিয়ার ক্ষেত্রেও একইভাবে ৫০০–৭০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ—দোকানে গেলে বলা হয় সরকারি দামে সার নেই। বেশি দামে কিনতে হবে; না হলে অন্য জায়গায় যেতে বলা হয়। এমনকি অধিকাংশ দোকানেই দেওয়া হচ্ছে না বিক্রয় রশিদ। কৃষকদের হতাশা—“আমরা বাধ্য হয়ে কিনছি”
স্থানীয় কৃষক রুবেল বলেন, “আলুর জমি তৈরি করেছি। সার ছাড়া উপায় নেই। দোকানগুলো সবাই মিলে দাম বাড়িয়েছে। বাধ্য হয়েই কিনতে হয়।”
কিচক শোলাগাড়ী গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, “সরকার দাম ঠিক করলেও আমরা সেই দামে সার পাই না। একই সিন্ডিকেট সব দোকানে একই দামে বিক্রি করছে।”
অনেকে অভিযোগ করেছেন, কিচক বাজারের সার পাওয়ার পর পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় পাচার করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষক আরও সংকটে পড়ছেন।
বলরামপুরের কৃষক জাহেদুল বলেন, “১৩৫০ টাকার সার ১৯০০ টাকা নিচ্ছে। তিন বিঘার জায়গায় এবার হয়তো এক বিঘা চাষ করেই থামতে হবে।”
মাদারগাছির কৃষক রবিউল বলেন, “১০৫০ টাকার সার ১৭০০ টাকা। এ পরিস্থিতিতে আলু চাষ কীভাবে করব?”
তদারকির অভাবেই সিন্ডিকেট বেপরোয়াঃ
কৃষকদের দাবি—বারবার অভিযোগ করেও প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। আশ্বাস দিলেও বাজারে তেমন পরিবর্তন হয়নি।
‘মেসার্স মান্নান অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর মালিক আব্দুল বারির ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
দোকানের ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান বলেন,
“আমরা বেশি দামে কিনে আনছি, তাই বেশি দামে বিক্রি করছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন— “আমি তো ডিলারের সাথেই আছি। কোথায় বেশি দামে বিক্রি করছে ধরেন, তারপর আমাদের জানান, ব্যবস্থা নেব।” এ কথার পর তিনি ফোন কেটে দেন।
কৃষকদের আশঙ্কা—“ফসল উৎপাদনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে” কৃষকদের অভিযোগ—দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আলু ও শীতকালীন সবজি উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় তারা জরুরি ভিত্তিতে সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।