
ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
স্টাফ রিপোর্টারঃ শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা মরা গাছ এখন পথচারী ও যানবাহন চালকদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো মৃত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেকোনো সময় এসব গাছ ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অল্প বাতাসেই অনেক সময় মরা গাছ কিংবা ডালপালা ভেঙে পড়ছে। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এসব সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী, ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চালকদের।
উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুস সালামসহ কয়েকজন চালক জানান, জীবিকার প্রয়োজনে তাদের দিনে-রাতে বহুবার এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। কিন্তু রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মরা গাছগুলোর কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে দিনের বেলায় কিছু অসাধু ব্যক্তি রাস্তার পাশের একটি মরা গাছ কাটার চেষ্টা করলে সেখানে দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়। এছাড়া কয়েকদিন আগে বাসুলডাঙ্গা মোড়ের অদূরে সাপাহার-গোদাগাড়ী সড়কে রাতের বেলায় হঠাৎ একটি মরা গাছ ভেঙে সড়কের ওপর পড়ে যায়। এতে পথচারীরা প্রথমে ডাকাতির আশঙ্কায় পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে দেখতে পায়, বাতাসে গাছটি ভেঙে পড়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। পরে পুলিশ সদস্যরা গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
এদিকে সামনে চৈত্র-বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় এসব মরা গাছ বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বাসুলডাঙ্গা গ্রামের আজমির ও দেলোয়ার নামের দুই ভ্যানচালক বলেন, সামান্য বাতাস হলেই গাছগুলো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ঝুঁকি নিয়েই সবাইকে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এসব মরা গাছ অপসারণ করে সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে সাপাহার বনবিট কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাস্তার পাশের গাছ কাটার বিষয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিলে গাছগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে কর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ১২ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক তছলিম উদ্দীন। এ সময় উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্যরাও মরা গাছ অপসারণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমান রিয়াজ জানান, শিগগিরই বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, এলজিইডি ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।