
ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
স্টাফ রিপোর্টারঃ বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
সাপাহার-এ মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক অসহায় নারী।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সাপাহার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার কৈবর্ত্তগ্রামের মৃত এরশাদ আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী মোসাঃ উমেশা খাতুন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার স্বামী এরশাদ আলী গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি প্রথম পক্ষের ৬ সন্তান ও দ্বিতীয় পক্ষের (উমেশা খাতুন) দুই নাবালক সন্তান রেখে যান। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই প্রথম পক্ষের বড় ছেলে, মারকাজ সাবাহ আল আহম্মদ আল ইসলামী মাদ্রাসা-এর পরিচালক ড. কাওসার এরশাদ মুহাম্মদ মাদানীসহ অন্যান্যরা সৎমা ও তার এতিম সন্তানদের প্রাপ্য সম্পদ বুঝিয়ে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উমেশা খাতুনের দাবি, স্বামীর রেখে যাওয়া আম বাগান, আবাদি জমি ও পুকুরের আয়ের কোনো অংশ তাকে দেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় দলিলপত্রও কৌশলে গোপন রাখা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া দুটি ট্রাক্টরের মধ্যে একটি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও তার বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও বিবাদীপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত মানেনি। উল্টো তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি স্বামীর ভিটা থেকে সরিয়ে দিয়ে গ্রামের নিচে বিদেশি অনুদানে নির্মিত একটি ঘরে বসবাসে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিবাদীপক্ষ ঘরটি নিজেদের খরচে নির্মাণের কথা বললেও পরে জানা যায়, সেটি একটি বিদেশি সংস্থার গৃহহীনদের জন্য দেওয়া অনুদান প্রকল্পের ঘর। বর্তমানে স্বামীর সামান্য পেনশনের টাকায় দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার নাবালক দুই সন্তান শফিকুল এরশাদ ও তাহেরা এরশাদ। পরিবারটি তাদের ন্যায্য পাওনা ও দলিলাদি উদ্ধারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ড. কাওসার এরশাদ মুহাম্মদ মাদানী বলেন, তিনি অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে থাকেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তিনি দাবি করেন, সংসার পরিচালনার বিষয়টি উমেশা খাতুনই ভালো বলতে পারবেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য সমাধান প্রত্যাশা করছেন।