
ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ) স্টাফ রিপোর্টার।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় মোটরসাইকেলে যোগে টাকা সংগ্রহ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক ব্যবসায়ী ও তার সহকারীকে পথরোধ করে মারধর করে ৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হারুন (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিয়ালা গ্রামের নুর আলমের ছেলে নাজিমুদ্দিন একজন আড়ৎ ব্যবসায়ী। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিনভর তার সহকারী আব্দুল আলীমকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে উপজেলার বিভিন্ন বাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করেন তিনি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা মাত্রাই–বিয়ালা সড়ক হয়ে বকুল মোড় এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে।
এসময় অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল থামিয়ে ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন ও তার সহকারী আব্দুল আলীমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাদের কাছ থেকে ৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাদের জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে আহত ব্যবসায়ীর বাবা নুর আলম বাদী হয়ে কালাই থানায় বিএনপি নেতা হারুনসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ প্রধান আসামি হারুনকে গ্রেফতার করে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, হারুনের ভাই মামুনুর রশিদ, একই গ্রামের রেজাউল ইসলাম, জনাব আলী, রেজাউল করিম ও তোফায়েল আহম্মেদ। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আমির হোসেন জানান, “হারুন ও তার ভাই মামুনুর রশিদসহ ১০ থেকে ১২ জন লোক ব্যবসায়ী ও তার সহকারীকে মারধর করে সাড়ে আট লাখ টাকা নিয়ে যায়। এলাকায় তারা সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।”
মামলার বাদী নুর আলম বলেন, টাকা নিয়ে গেছে তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু আমার ছেলেকে যেভাবে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে, তার বিচার চাই। সেই আশাতেই মামলা করেছি।”
এবিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন,“ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি হারুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।