
ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
মোঃ রুহুল আমিন পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টারঃ ১ মে ২০২৬
মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস উপলক্ষে জয়পুরহাটে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন ও আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর, বগুড়ার আয়োজনে শহরের রামদেও বাজলা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। জেলার বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নিজ নিজ ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগান নিয়ে র্যালিতে অংশ নেয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জয়পুরহাট সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক উত্তম কুমার রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ নুরল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক উর রহমান, জয়পুরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ নুরে আলম সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গোলাম মর্তুজা শিপলু, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি বাবুল করিম এবং জেলার বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, মহান মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের অনুপ্রেরণার দিন। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, সময়মতো বেতন প্রদান, ওভারটাইমের সঠিক হিসাব, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
শ্রমিক নেতারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদন ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। তাই শ্রমিকদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা শ্রমবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, প্রতিটি কর্মস্থলে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। দুর্ঘটনামুক্ত কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে মালিক, শ্রমিক ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
দিবসটি উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করে। র্যালি ও আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো আয়োজনে শ্রমিকদের অধিকার, সংহতি ও মর্যাদার বার্তা ছড়িয়ে পড়ে জয়পুরহাটজুড়ে।