
ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
জাহিদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার, কালাই (জয়পুরহাট): ৮ এপ্রিল ২০২৬
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় এক ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র সামনে এসেছে—যেখানে শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক বেশি, আর শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার হচ্ছে আলু সংরক্ষণের গুদাম হিসেবে। ঘটনাটি উপজেলার বোড়াই রাহিমা খাতুন দাখিল মাদ্রাসার।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১৭ জন। অথচ প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেখানো হয়েছে ২৪৫ জন। বাস্তবে উপস্থিতির হার মাত্র ৩ শতাংশের মতো, যা শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর পরিচালনা কমিটির কারণে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত কমলেও শিক্ষক নিয়োগ কমেনি।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ ও মাঠে আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম এসব আলু সংরক্ষণ করছেন। মাদ্রাসার পিয়ন জানান, একাধিকবার অনুরোধ করেও আলু সরানো হয়নি।
শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিরাজ করছে হতাশা। ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুম অভিযোগ করে বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর জন্য দুইজন শিক্ষক থাকলেও কেউ এখানে পড়তে আসে না। অনেক শিক্ষক নিজেদের সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে এই মাদ্রাসায় নাম ব্যবহার করে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করেন।”
অন্য এক শিক্ষার্থী জানান, নিয়মিত ক্লাস হলেও অধিকাংশ সময় শ্রেণিতে দুই-তিনজনের বেশি উপস্থিত থাকে না। পুরো মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫-২০ জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এছাড়া, সম্প্রতি গঠিত ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। অভিযোগ উঠেছে, অভিভাবক ও দাতা সদস্যদের না জানিয়েই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার সুপারের কাছে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। এমনকি হাজিরা খাতা দেখানোর অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করা হয়। এ সময় এক শিক্ষিকা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা জানিয়েছেন, বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থাপনার তদারকি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।