
ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
স্টাফ রিপোর্টারঃ বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
নওগাঁর সাপাহারে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪৭) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে উপজেলার গোয়ালা লক্ষিতলা এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। পরে বুধবার (৪ মার্চ) ভোরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এজাহার নামীয় পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
নিহত শহিদুল ইসলাম উপজেলার গোয়ালা খরিবোন গ্রামের মৃত আমির আলীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে সাপাহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এজাহারের বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগ-বন্টন নিয়ে শহিদুলের পরিবারের সাথে প্রতিপক্ষের একটি পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছিল। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শহিদুল তার নিজস্ব অটোচার্জার ভ্যান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গোয়ালা লক্ষিতলা এলাকায় পৌঁছালে হামলাকারীরা রাস্তায় বাঁশ ফেলে তার গতিরোধ করে। এরপর তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
শহিদুলের চিৎকারে ভ্যানে থাকা যাত্রী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে হামলার পর ওই রাতেই প্রতিপক্ষরা পুনরায় দলবদ্ধ হয়ে শহিদুলের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তারা ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং বাধা দিতে গেলে নিহতের মা ও দুই পুত্রবধূকে মারধর করে জখম করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো: মতিবুর ইসলাম(৫৫), পিতা-মৃত ইয়াহিয়া, মো: রফিকুল ইসলাম(৭০), পিতা-মৃত নজর আলী মন্ডল, মো: আল মামুন (২০), পিতা মো: মতিবুর ইসলাম, সর্ব সাং- গোয়ালা মাসনাতলা এবং মো: আব্দুর রায়হান (২০), পিতা মো: মজিবর রহমান, সাং-গোয়ালা, খরিবনা, থানা-সাপাহার। ও মোঃ শফিকুল ইসলাম।
সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং এঘটনায় এজাহার নামীয় পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি হ’ত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অন্যান্য জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।