
ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
এ.বি.এস রতন, স্টাফ রিপোর্টারঃ রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিখ্যাত নাক ফজলি আমগাছে বসন্তের আগমনী বার্তায় ফুটেছে দৃষ্টিনন্দন মুকুল। মাঠের পর মাঠ জুড়ে সবুজ আমবাগানে হলুদাভ মুকুলের সমারোহ যেন সৃষ্টি করেছে এক অপূর্ব আমের রাজ্য। এতে নতুন স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় আমচাষীরা।
গ্রামবাংলার প্রকৃতি এখন যেন মুকুলে মোড়া এক নতুন সাজে সেজেছে। বাগানঘেরা গ্রামাঞ্চল ও বাড়ির আঙিনায় ছড়িয়ে পড়েছে আমের মুকুলের হালকা সুগন্ধ। ভোরের কোমল রোদ আর বিকেলের মৃদু বাতাসে দুলছে মুকুল—প্রকৃতি যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমগাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। তবে ঝড় বা শিলাবৃষ্টি না হলে এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। ইতোমধ্যে অনেক বাগান মালিক গাছের পরিচর্যা ও রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
উপজেলার ভান্ডারপুর গ্রামের আমচাষি আব্দুল রহমান বলেন, “এবার আমগাছে মুকুলের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বেশি। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় এবং ঠিকমতো পরিচর্যা করা যায়, তাহলে ভালো ফলন পাবো এবং বাজারে ভালো দামও পাওয়া যাবে। নাক ফজলি আম দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমনি সুস্বাদু ও মিষ্টি।”
বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উপজেলার বিভিন্ন বাগানে জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নাক ফজলি আমগাছে ব্যাপক মুকুল এসেছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মুকুলের যত্ন, রোগবালাই দমন এবং গাছের গোড়ায় সেচ দেওয়ার বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে বদলগাছী উপজেলায় মোট ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫৫ হেক্টর জমিতে জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নাক ফজলি আম চাষ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এবছর শুধু নাক ফজলি আম থেকেই প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার বাণিজ্য হওয়ার আশা করছেন তারা।
এছাড়াও উপজেলায় আমরুপালি, বাড়ি-৪, ল্যাংড়া, হাড়িভাঙ্গা ও ফজলিসহ বিভিন্ন জাতের আমের চাষ রয়েছে। সব মিলিয়ে এবার আমের মৌসুম ঘিরে নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন বদলগাছীর আমচাষীরা।
চাইলে আমি এটাকে আরও পত্রিকা স্টাইলে (লিড আরও শক্ত, একটু ছোট করে) বা অনলাইন নিউজ পোর্টালের জন্য বেশি ভাইরাল স্টাইলেও করে দিতে পারি।