
ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
স্টাফ রিপোর্টারঃ ৯ জুলাই ২০২৬
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিষাক্ত সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক নারীকে দ্রুত চিকিৎসা ও সময়মতো এন্টিভেনাম প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুঝুঁকি থেকে রক্ষা করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার পাল। বর্তমানে ওই নারী সুস্থ রয়েছেন এবং হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে উপজেলার আটাপুর এলাকার মৃত তফিজ উদ্দিনের স্ত্রী জেবুন্নেছা খাতুন (৫৫) নিজ বাড়িতে হাতপাখা তৈরির জন্য একটি বস্তায় রাখা পুরোনো কাপড় খুঁজছিলেন। এ সময় বস্তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি বিষাক্ত সাপের বাচ্চা তার হাতে কামড় দেয়। এতে তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংরক্ষিত এন্টিভেনাম প্রয়োগ করেন। এরপর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার পাল বলেন, সাপে কাটা রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো এন্টিভেনাম প্রয়োগের ফলে রোগী বর্তমানে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। তাকে আরও কিছু সময় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। শতভাগ সুস্থ হলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুম ও শীতের শুরুতে সাপের উপদ্রব তুলনামূলক বেড়ে যায়। এ সময় বাড়ির আশপাশ, খড়ের গাদা, পুরোনো কাপড়, বস্তা কিংবা অন্ধকার স্থানে হাত দেওয়ার আগে সতর্ক থাকতে হবে। সাপে কামড়ালে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করে কোনো ধরনের বিলম্ব না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা ও এন্টিভেনাম প্রয়োগই সাপে কাটা রোগীর জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।