
ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: ৯ জুলাই ২০২৬
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ৫ নং আব্দুলপুর ইউনিয়নের বেলতলী বাজার থেকে সাহার মোড় পর্যন্ত সড়কের রিপেয়ারিং এর সাব-ব্যাচে ও এজিং এর কাজে নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। রাস্তায় এমন নিম্নমানের কাজ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দেখেও কিছুই দেখছে না অথচ চিরিরবন্দর উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ঠিকাদারের পক্ষে সাফাই গাইলেন। এই সড়ক অনিয়মে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের বেলতলী বাজার থেকে একই ইউনিয়নের সাহার মোড় পর্যন্ত সংযোগ সড়কটির তিন হাজার ৫০০ মিটার রাস্তা রিপেয়ার করার জন্য কাজটি করছে উপজেলার স্থানীয় ঠিকাদার ৬ নং অমরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবেদ আলী শাহ্ ।
সরেজমিন গিয়ে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাস্তার বিভিন্ন অংশে নিম্নমানের ইটের খোয়ার ওপর বালু দিয়ে প্রথম স্তর তথা WBM বা সাব-ব্যাচের কাজ চলমান আছে, জানা যায় আগেই করা হয়েছে রাস্তার বর্ডার বা এজিং এর কাজ। এজিং এবং ডাব্লিউবিএম এ এমন নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যাবহার করা হলে রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। শুরু থেকেই স্থানীয় লোকজন কাজের মান নিয়ে আপত্তি করছেন নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যাবহারের কারণে রাস্তা নির্মিত হওয়ার অল্পদিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাবে।
সরেজমিনে গিয়ে আরও দেখা যায় রাস্তা তৈরির স্টিমেট এ পিকিট ঝামা ইট ব্যাবহার করার কথা থাকলেও সেই স্টিমেটকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সড়কের সাব-ব্যাচ এ নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যাবহার করা হচ্ছে। রাস্তা নির্মাণে কাজ করতে থাকা একজন শ্রমিক (ট্রাক্টর চালক) এর কাছে এগুলি কত নং ইটের খোয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন “আপনারা তো দেখতেই পাচ্ছেন এগুলো কত নম্বর ইটের খোয়া, এগুলোই এক নম্বর ইট।”
এ ব্যাপারে দক্ষিণ নগর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম জানান “এখানে প্রায় মাসখানেক ধরে কাজ চলছে কাজের যে একটা মান থাকবে সেটা এখানে নেই,খুব একটা ভালো কাজ এখানে হচ্ছে না। এখানে গড়পড়তার ২,৩ নম্বর ইট ইট-খোয়া দেখা যাচ্ছে।”
নিম্নমানের কাজের বিষয়ে স্থানীয় ভ্যান চালক আনারুল হাতে ভাঙ্গা ইটের টুকরো নিয়ে বলেন ” আপনারাই দেখেন এগুলো কী ইট, যারা কাজ করছে তাদেরকে এতো খারাপ ইটের কথা বললে কন্ট্রাক্টর ম্যানেজারকে দেখায় দেয় আমরা কী তাদেরকে চিনি?”
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আবেদ আলী শাহ্ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ” কে আপনাদেরকে অভিযোগ দিয়েছে? আমি কাজ ভালোই করতেছি এখানে কোন কারাপ কাজ করাই হয়নি। আপনাকে রাস্তার কাজ দেখার দ্বায়িত্ব কে দিয়েছে, আপনাকে কাজ দেখার অনুমতি কে দিয়েছে?? কাজ দেখার ইন্জিনিয়ার আছে এলজি ইডি আছে সাব-এসিস্ট্যান্ট ইন্জিনিয়ার আছে, কাজ দেখার আপনি কে?”
রাস্তায় এমন নিম্নমানের কাজ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দেখেও দেখছে না। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন বলেন “রাস্তার যে কাজগুলো করছে সেগুলো লক্ষ্য করলেই দেখবেন রাস্তার যে ধারগুলো আছে সেগুলো ভেঙে যাচ্ছে আবার নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করতেছে আমরা প্রশ্ন করেছিলাম ঠিকাদারকে যে আপনারা কেমন ইট দিয়ে কাজ করতেছেন? তখন ঠিকাদার বলেছিলো যেরকম বরাদ্দ আছে সেইরকম ইট দিয়েই কাজ করবো। পরে আমরা খোঁজ খবর নিয়ে জানলাম এখানে এক নম্বর ইট দিয়ে কাজ করার কথা কিন্তু এরা তিন নম্বর ইট দিয়ে কাজ করতেছে, আবার রোলার মেশিন দিয়ে যখন কাজ করতেছে রোলার করার পর ইটগুলো মিহি গুড়া আটার মতো হয়ে যাচ্ছে”। সেইসাথে তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন ” আপনারা যারা দ্বায়িত্বে আছেন বিষয়টি ভালো করে তদন্ত করুন, আমাদের অন্য কোন কিছু দরকার নাই শুধু ভালো রাস্তা চাই”।
চিরিরবন্দর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মাসুদার রহমান জানান ” আমি নিজেই কাজ দেখতে গিয়েছিলাম, রাস্তায় কোন খারাপ ইট ব্যাবহার করা হয়নি ”
এ বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেহা তুজ জোহরার কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানান ” এই কাজ তো জেলা এলজিইডি অফিস করতেছে আমাদের এখানে শুধু কাজটি মনিটরিং করতেছে আর কিছু না”। সেইসাথে তিনি আরও বলেন ” এই কাজ তো শেষ হয়ে গেছে, বিল সহ তুলে নিয়ে গেছে ঠিকাদার”।
কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বক্তব্য সাপেক্ষে আবারও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাস্তার কাজ শেষ হয়নি বরং এখনো ডাব্লিউবিএম চলমান। রাস্তার নির্মাণস্থল থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মুঠোফোনে বর্তমান অবস্থা বিষয়ে অবহিত করে কাজ চলমান মর্মে জানতে চাইলে তিনি বলেন ” ঠিক আছে আমি জানাচ্ছি বিষয়টি আমি নিজে একবার গিয়ে দেখে আসবো, তবে আপনি জেলা এলজিইডি অফিসে যোগাযোগ করেন”।