1. wjoypurkantha@gmail.com : জয়পুর কণ্ঠ : জয়পুর কণ্ঠ
  2. info@www.joypurkantha.com : জয়পুর কণ্ঠ :
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ক্ষেতলালে অসহায় নারীদের মাঝে ৮৩টি বোকনা গরু বিতরণ সাপাহারে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে তিনমাস ধরে বিকল ইন্টারনেট সংযোগ পাঁচবিবিতে দুস্থ শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও পঙ্গু ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার প্রদান নওগাঁর বদলগাছীতে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে আনন্দ র‍্যালি অনুষ্ঠিত কালাইয়ে পরকীয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য ক্ষেতলালে পুলিশের দ্রুত অভিযানে নবম শ্রেণির ছাত্রী উদ্ধার ৷৷ বাবা-মায়ের জিম্মায় হস্তান্তর সাপাহারে কৃষকের সবজি ক্ষেত কেটে দিল দুর্বৃত্তরা সাপাহারে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পাঁচবিবি রেলওয়ে স্টেশনে রূপসা, সীমান্ত, কুড়িগ্রাম ও নীলসাগর এক্সপ্রেসের বিরতির দাবিতে মানববন্ধন জয়পুরহাটে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস পালিত

চোখে আলো নেই, তবু স্বপ্নে দীপ্ত শরীফ

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১৯ বার পড়া হয়েছে

ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ

দৃষ্টিহীন হয়েও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অনুপ্রেরণার নাম শরীফ আলী

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ ২১ এপ্রিল ২০২৬

জন্ম থেকেই দুই চোখে আলো নেই। তবুও থেমে থাকেননি শরীফ আলী (১৯)। অদম্য মনোবল, কঠোর পরিশ্রম আর স্বপ্নকে সঙ্গী করে তিনি অংশ নিয়েছেন ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায়। দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা তার পথ আটকে রাখতে পারেনি; বরং সেই সীমাবদ্ধতাকেই জয় করে এগিয়ে চলেছেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের এই দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীর বাড়ি শহরের গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট মহল্লায়। তার বাবা রমজান আলী একজন ইজিবাইকচালক। সীমিত আয়ে সংসার চললেও ছেলেকে শিক্ষিত করার স্বপ্ন থেকে কখনো সরে যাননি তিনি।

পরিবারের সদস্যদের মুখে মুখে শুনে পড়াশোনার শুরু শরীফের। পরে স্থানীয় গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ২০২১ সালে ভর্তি হন ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় তিনি অংশ নেন ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। নিজে লিখতে না পারায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পরীক্ষা দেন তিনি।

শরীফের শ্রুতিলেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সদর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শায়লা আক্তার। শুরুতে শ্রুতিলেখক না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন শরীফ। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন শায়লা। পরে শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন পেয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন।

পরীক্ষা শুরুর আগে শায়লা বলেন, “আমার হাতের লেখায় যদি শরীফ ভাই ভালো ফল করতে পারেন, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।”

শরীফ বলেন, “আমার দৃষ্টি ফেরাতে মা-বাবা অনেক চেষ্টা করেছেন। আমি পড়ালেখা করে চাকরি করতে চাই, যাতে তাদের ভালো রাখতে পারি।”

কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহানুর বেগম চৌধুরী জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সময়সহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

শরীফ আলীর এই সংগ্রামী পথচলা প্রমাণ করে—চোখে আলো না থাকলেও স্বপ্নের আলো নিভে যায় না। তিনি আজ শুধু একজন পরীক্ষার্থী নন, হাজারো মানুষের অনুপ্রেরণার নাম।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিতঃ জয়পুর কণ্ঠ
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট