
ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
স্টাফ রিপোর্টারঃ ১০ জুলাই ২০২৬
বগুড়ার শেরপুরে ট্রাক থামিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও শেরপুর থানা পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক, লুট হওয়া দুইটি জীবিত গরু এবং পাঁচটি মৃত গরু উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৯ জুলাই মো. জামাল উদ্দিন (৩৩) শেরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার রসুলগঞ্জ হাট থেকে প্রায় ১৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের ১২টি গরু কিনে একটি ট্রাকে করে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন। ট্রাকটি শেরপুর উপজেলার বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক সামনে আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে পথরোধ করা হয়।
এরপর ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ট্রাকের কাচ ভেঙে চালক, হেলপার ও গরুর মালিককে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে। পরে ট্রাকে থাকা ১২টি গরু, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৫ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শেরপুর থানায় পেনাল কোডের ৩৯৫/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার পর জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম-এর নির্দেশনায় ডিবি ও শেরপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৯ জুলাই রাতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সালাম সরকার (৩৫) ও বুলু মিয়া (২৮) নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক এবং ট্রাকে থাকা পাঁচটি মৃত গরু উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ জুলাই রাত ১টা ৪৫ মিনিটে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার গোলচত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মহিদুল (৩৪) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার হেফাজত থেকে লুট হওয়া দুইটি জীবিত গরু উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত মহিদুলের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি চুরির মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া এ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।