
ছবিঃ জয়পুর কণ্ঠ
মিজানুর রহমান (বগুড়া): ২৩ জুলাই ২০২৬
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে ব্যাকডেট দেখিয়ে গোপনে নিয়োগ সম্পন্ন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষিত বেকার চাকরিপ্রার্থী।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে প্রার্থীরা কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তাকর্মী পদে আবেদন করেন। পরবর্তীতে একই পদে আরও কয়েকটি পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তারা আবারও আবেদন করেন।
তবে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মধ্যে বিরোধের জেরে সে সময় নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
প্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকার পরও তাদের জমা দেওয়া ব্যাংক ড্রাফটের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি তারা জানতে পেরেছেন যে, অবসর গ্রহণের আগে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম কোনো ধরনের পরীক্ষা বা নিয়মবহির্ভূতভাবে গোপনে ব্যাকডেট দেখিয়ে তিনটি পদে নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন।
অভিযুক্ত এই নিয়োগগুলোর মধ্যে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে নাফিউল ইসলাম (তোহা) অথবা মানিক, অফিস সহায়ক পদে নোমান খলিফা এবং নিরাপত্তাকর্মী পদে রাসেলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে এসব বিতর্কিত নিয়োগ এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনকারীদের দাবি, কোনো ধরনের লিখিত, মৌখিক কিংবা ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তাদের দেওয়া হয়নি। এমনকি তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করেই ২০২৩ সালের স্থগিত নিয়োগ প্রক্রিয়া ২০২৬ সালে এসে গোপনে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতেও চেক জালিয়াতি এবং অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, নিয়োগটি বন্ধ রয়েছে। আশেপাশের মানুষ অযথা এসব কথা বলছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তারিকুল আলম বলেন,বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। অভিযোগের তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।